মনপুরা কেমন ছবি

সিনেমা আলোচনা

পুন্নি কবীর

Imageপ্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শকের অভাবে যখন দীর্ঘদিন হাহাকার চলছিল, মনপুরা মুক্তি পাওয়ার পর সেগুলোর চিত্র ছিল এমন, যেন খরার বুকে প্রবল বৃষ্টি। গিয়াসউদ্দিন সেলিম তার প্রথম ছবিতেই পেয়ে গেলেন আশাতীত সাফল্য। সেইসাথে মাফল্য আর জনপ্রিয়তার ভাগিদার হলেন চলচ্চিত্রের দুই কেন্দ্রীয় অভিনয় শিল্পী চঞ্চল চৌধূরি ও ফারহানা মিলি।
সহজ সরল প্রেম কাহিনি নিয়ে মনপুরার গল্প। গ্রামের প্রভাবশালী গাজী পরিবারের একমাত্র পুত্র যে কিনা মানসিক প্রতিবন্ধী, গভীর রাতে খুন করে বাড়ির এক কাজের মেয়েকে। কিন্তু খুনের দায় যেন সন্তানের কাঁধে না পরে তাই বাবা গাজী এবং মা মিলে চক্রান্ত করে ফাঁসিয়ে দেয় ঐ বাড়ির সহজ সরল কাজের ছেলে সোনাইকে। সোনাই এতিম এবং গাজীর বাড়িতেই বড় হয়েছে। গাজী সাহেব সোনাইকে বুঝিয়ে শুনিয়ে খুনের রাত্রের পরদিন সকালে মনপুরা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয় যেন প্রশাসন ও গ্রামবাসী তাকেই খুনী হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর মনপুরা দ্বীপে শুরু হয় সোনাইয়ের দীর্ঘ একাকী জীবন। এরই এক পর্যায়ে তার দেখা হয়ে যায় আরেক গ্রামের হাকিম মাঝির মেয়ে পরীর সাথে। এই পরী যেন রূপকথার পরীর মতই বদলে দেয় সোনাইয়ের জীবন। দু’জনই ডুবে যায় পরস্পরের প্রেমে।
অন্যদিকে মানসিক অসুস্থ পুত্র হালিমকে সুস্থ করতে এক পীর সাহেবের দ্বারস্থ হয় গাজী। পীর সাহেব পরামর্শ দেয় যে সুন্দরী কোন মেয়ের সাথে হালিমের বিয়ে দিলেই সে সুস্থ হয়ে উঠবে। এরপরই গাজী মনপুরা দ্বীপে সোনাইয়ের সাথে দেখে অনন্য সুন্দরী পরীকে। সে তখন হাকিম মাঝির কাছে পরীকে পুত্রবধূ করার উদ্দেশ্যে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায় ও তাকে বিষয়সম্পত্তির প্রলোভন দেখায়। হাকিম মাঝি প্রলোভনে পড়ে পাগল পাত্রের সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হয়ে যায়। তাই সোনাই আর পরী পালিয়ে যাবার পরিকল্পনা করে। কিন্তু তার আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় সোনাই। নিরুপায় হয়ে পরী পাগল হালিমের সাথে বিয়ের পিড়িতে বসে। একদিকে শুরু হয় শ্বশুর বাড়িতে পরীর বিরহের জীবন আর অন্যদিকে জেলখানায় সোনাইয়ের বন্দি নিঃসঙ্গ জীবন। পরী যেন সোনাইকে ভুলে গিয়ে হালিমের প্রতি মনযোগী হয়, এ দুরভিসন্ধি নিয়ে হালিমের মা পরীকে জানায় যে, সোনইয়ের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এ কথা সহ্য করতে না পেরে বিষ পানে আত্মহত্যা করে পরী; আর পরদিনই জামিনে মুক্তি পেয়ে জেল থেকে বেরিয়ে আসে সোনাই। মর্মান্তিক পরিণতি হয় গ্রাম-বাঙলার এই সহজ সরল প্রেমের।
কেন এমন দর্শকপ্রিয়তা পেল মনপুরা?
মনপুরাকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করে তুলতে দারুণ দুরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম। এ ক্ষেত্রে তিনি বোম্বাইয়া ফিল্মি কায়দা অনুসরণ করেছেন। ছবি মুক্তির আগেই তিনি মনপুরা ছবির শ্রুতিমধুর এবং আকষর্ণীয় গানগুলো বাজারে ছেড়ে দেন। বলিউডের এ মার্কেটিং পলিসিতে সফলতা আসে ব্যাপকভাবে। ছবি মুক্তি পাওয়ার আগেই মনপুরা ছবির গানগুলি জনপ্রিয়তার শীর্ষে স্থান পায়। গানগুলোতে আধুনিক ধারার সাথে ফোকের এমন এক মিশেল ছিল যা সিংহভাগ জনগোষ্ঠী সাদরে গ্রহণ করে। সেই সাথে হালের এফএম রেডিও চ্যানেলগুলোতেও এসব গান বার বার প্রচার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলচ্চিত্রটিকে নিয়ে বিপুল আগ্রহের সৃষ্টি হয়। আর এর প্রতিফলন দেখা গেছে ছবি মুক্তির সাথে সাথে।
এমন একটি কাহিনি-নির্ভর চলচ্চিত্র তৈরির উদ্যোগও দুরদর্শিতার পরিচায়ক; যেখানে মূলধারায় তারকানির্ভর চলচ্চিত্রগুলো সাধারণ দর্শকের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে পারছিল না। সেই সাথে অশ¬ীলতা ও ভায়োলেন্স বর্জিত চলচ্চিত্র হিসাবে এটি একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাংলাদেশের চলমান চলচ্চিত্রের ইতিহাসে। মনপুরা বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র যার প্রতিটি কপি ফোর হান্ড্রেড আইএসও ফিল্মে প্রিন্ট করা। এর ফলে এর ছবি এত ঝকঝকে যা প্রেক্ষাগৃহের দর্শকদের জন্য ছিল দৃষ্টিনন্দন এক নতুন অভিজ্ঞতা। সেই সাথে ক্যামেরার কাজ, শিল্প নির্দেশনা ইত্যাদিও এর সাফল্যের পেছনে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। মনপুরার টার্গেট না শুধু মধ্যবিত্ত দর্শক কিংবা না শুধু নিম্ন মধ্যবিত্ত দর্শক বরং এর কাহিনি এবং চরিত্র রূপায়ন এমনই যে যা দুই শ্রেণির দর্শকদেরকেই টানে। ফলে চূড়ান্তভাবে বানিজ্যিক সফলতা পায় চলচ্চিত্রটি।
সত্যিকার অর্থে কতখানি ভিন্নধর্মী মনপুরা
মনপুরা চলচ্চিত্র মুক্তি পাবার আগে ও পরে পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে শুনে আসছি এর নামের আগে ভিন্নধর্মী বা ব্যতিক্রমি বিশেষণটি। চলচ্চিত্রে একেবারে আনকোরা দুজন শিল্পীকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজ করানো অবশ্যই একটি ব্যতিক্রমি উদাহরণ। তা ছাড়া অশ¬ীলতা ও ভায়োলেন্সে ভরা সিনেমার যুগে মনপুরার মতো একটি অশ¬ীলতা ও ভায়োলেন্স বিবর্জিত সহজ-সরল গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণও ব্যতিক্রমের আরেকটি নমুনা হতে পারে। তবে মনপুরা চলচ্চিত্রের আদ্যোপান্ত বিবেচনায় আনলে এটা কে কি একটি ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র বলা যায়? ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র আমরা সাধারণত সেগুলোকেই বলে থাকি যেগুলো বাস্তবধর্মী এবং যেগুলো দেখে আমরা বাস্তবের কোন শিক্ষা বা ম্যাসেজ পাই অথবা সেসব কাহিনির গভীরে কোন সত্যকে নতুনভাবে উপলব্ধি করা যায়। কিন্তু মনপুরা গল্পটি সম্পূর্ণ বিনোদনধর্মী একটি ফিকশন যেখানে মোটা দাগে ভিলেন চরিত্রের সাথে ভালো চরিত্র যুদ্ধ করে যায় এবং সেই সাথে যোগ হয় প্রেম, সঙ্গীত এবং সস্তা কমেডি। এখানে না কোন বাস্তবের শিক্ষা আছে না কোন গভীর উপলব্ধি। বরং মনপুরা যে ব্যবসা করার জন্যই নির্মিত একটি বিনোদনধর্মী ছবি তা এর অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিফলিত হয়েছে। আমি অবশ্যই মনে করি না যে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণ কোন দোষের কিছু। কিন্তু বিনোদনের জন্য নির্মিত বাণিজ্যিক একটি ছবিকে কি ভিন্নধর্মী ছবির অভিধায় অভিহিত করা সঠিক?
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই কারণে-অকারণে মনপুরা ছবির বিভিন্ন অংশে গান জুড়ে দেয়া হয়েছে। এর পরিবেশক যেহেতু জুঁই নারিকেল তেল, তাই পরীর বিয়ের সামগ্রীর মধ্যে জুঁই নারিকেল তেলের কৌটার প্রচ্ছন্ন বিজ্ঞাপন দেখা যায়। অত্যন্ত সুক্ষ্ণভাবে পরীর চরিত্রে অভিনয়শিল্পী ফারহানা মিলিকে পুরুষ দর্শকের কাছে আকষর্ণীয় করে চিত্রায়িত করা হয়েছে। সেই সাথে ছবিটির বিভিন্ন অংশে অপ্রাসঙ্গিকভাবে সস্তা কমেডি আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
নিশ্চয়ই মনপুরার উপস্থাপনা অন্য আর দশটা বিনোধন ধারার চলচ্চিত্র হতে আলাদা। অনেক কিছুতেই এর নির্মাতা মুন্সীয়ানার পরিচয় দিয়েছেন, ছবিটিকে করেছেন হৃদয়গ্রাহী; ফলশ্রুতিতে ছবিটি দর্শক টানতে সক্ষম হয়েছে আশাতীত। কিন্তু ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র বলতে যা বোঝায় তা হয়ে উঠতে পারেনি মনপুরা।
দুর্বল সংলাপ, সস্তা কমেডি এবং ব্যর্থ আবহ সঙ্গীত
বলিষ্ঠ সংলাপ একটি ভালো চলচ্চিত্রের পূর্ব শর্ত। সংলাপ তখনই দুর্দান্ত হয়ে ওঠে যখন তাতে থাকে চরিত্রের বিশেষত্ব, রূপকার্থ বা সাবটেক্সট এবং যা অল্প শব্দে অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয়। মনপুরা চলচ্চিত্রে কোথাও এমন কোন সংলাপ নেই যা মনে রাখার মতো। আর যেখানে মোটা দাগে চরিত্রগুলোকে নিগেটিভ ও পজিটিভে ভাগ করে দেয়া হয়েছে সেখানে চরিত্র চিত্রায়নে উলে¬খযোগ্য কোন সংলাপ থাকার তো কোন প্রয়োজনই থাকে না।
সাধারণ বাংলা চলচ্চিত্রের অপরিহার্য একটি চরিত্র হচ্ছে কমেডিয়ান। এ ছবিতেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। মনপুরায় কমেডিয়ানের কাজটি করানো হয়েছে গাজী পরিবারের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে হালিমের চরিত্রের মাধ্যমে। যে কমেডিগুলো তাকে দিয়ে করানো হয়েছে তা অত্যন্ত সস্তা। অথচ বাস্তবে এটি একটি ট্র্যাজিক চরিত্র।
মনপুরার দুর্বলতম দিকগুলোর একটি হচ্ছে এর আবহ সঙ্গীত। কারণ এই ছবির কোন পরিস্থিতি বা অনুভূতি তৈরিতে আবহ সঙ্গীতের কোন ভূমিকা দৃষ্ট হয়নি। কিছু কিছু পরিস্থিতিতে গানগুলো বিশেষকরে পরীর মৃত্যুর পর ‘সোনাই হায় হায় রে’ গানটি আবেগকে নাড়া দিতে সফল হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন আবেগঘন বা টেনশনের মুহূর্তে বিশেষ করে সোনাইয়ের দীর্ঘ একাকী জীবনের মুহূর্তগুলোতে ব্যবহৃত আবহ সঙ্গীতকে অত্যন্ত দুর্বল মনে হয়েছে।

বাস্তব ও ফিকশনের জগাখিঁচুড়ি
মনপুরায় গ্রামীণ পরিবেশের সাথে মাননসই অভিনয়শিল্পী বাছাই করা হয়েছে এবং পুরো চলচ্চিত্রের দৃশ্যই বাস্তব লোকেশনে ধারণ করা হয়েছে। কিছু দৃশ্যের চিত্রায়ন প্রশংসার দাবি রাখে; যেমন সোনাই চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরীর নদীতে ডুবসাঁতার দেওয়া, লুঙ্গি কাছা মেরে দৌড়ে ছাগল ধরা, গাভীর দুধ দোওয়ানো, পরী চরিত্রে ফারহানা মিলির অবলীলায় বৈঠা বেয়ে নৌকা চালানো, পরীর বাপের চরিত্রে ফজলুর রহমান বাবুর ছেঁড়া জাল মেরামতের দৃশ্যগুলোতে বাস্তবতার ছাপ লক্ষনীয়। এ দৃশ্যগুলি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে অভিনয় পাদর্শীতায় এবং চিত্রায়নের কারণে। অথচ যে বিষয়টি দৃষ্টি এবং শ্রুতিকটু লেগেছে তা হচ্ছে গ্রামের এ চরিত্রগুলির ভাষায় কোন নির্দ্দিষ্ট অঞ্চলের টান নেই; ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষার সাথে কেউ বা আবার শুদ্ধ ভাষার সংমিশ্রণে সংলাপ আউড়িয়েছেন। এ ব্যাপারটিতে আরো সচেতন হওয়া দরকার ছিল।
গ্রামের সুন্দরী মেয়ে হিসাবে মানানসই চেহারার পরী যখন হাল আমলের বুটিক হাউসগুলির পোশাক ও গহনায় সজ্জিত হয়ে বৈঠা বেয়ে নৌকা চালিয়ে যায় সে দৃশ্যও বেশ বেখাপ্পা লাগে। আরেকটি দৃশ্যের কথা এখানে উলে¬খ করা যায়, যেখানে পরী স্বপ্নে সোনাইয়ের ফাঁসির দৃশ্য দেখে। এ দৃশ্যের জল¬াদগুলোর পোশাক ও মেকআপ দেখে মনে হয় তারা হলিউডের কোন হরর মুভি থেকে উঠে এসেছে। অথচ গ্রামের যে মেয়ে কখনো টিভি-ডিশ চ্যানেল দেখেনি, তার কল্পনায় এমন জল¬াদ দেখাটা বাস্তব সম্মত নয়। আর শেষে বিষ খেয়ে পরীর আত্মহত্যার ঘটনা কতখানি বাস্তবিক তা নিয়েও সন্দেহ আছে, যদিও যুগ যুগ ধরে ট্র্যাজিক নায়িকাদের ঘরে বিষের বোতল সাজানোই থাকে।
চলচ্চিত্রকে বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করতে এ্যমবিয়েন্ট শব্দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মনপুরায় এ্যমবিয়েন্টের ব্যবহার উলে¬খযোগ্যভাবে কম ছিল। পর্দায় অভিনয়শিল্পীদের চুল উড়াউড়ি করছে, বাতাসের ভারে গাছ নুয়ে পড়ছে এমন সব দৃশ্যে বাতাসের শব্দ নেই, তীরে এসে পানি আছড়ে পড়ছে এবং ক্লোজ শটে তা দেখানো হচ্ছে তখন বাতাসের শব্দ আর পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দের জন্য কান খাড়া হয়েছিল, কিন্তু এ ধরনের কোন শব্দ না পেয়ে খানিকটা আশাভঙ্গ হয়েছে।
নাটকীয়তা, অতিনাটকীয়তা ও দুর্বল অভিনয়
টেলিভিশনে ভাল নাটক করার খ্যাতি আগে থেকেই আছে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের। শিরোনামে নাটকীয়তা শব্দের ব্যবহারের কারণ ছবির গল্পের গভীরতা ও প্রসারতা একটা এক ঘণ্টার নাটকের জন্য অবশ্যই প্রযোজ্য কিন্তু পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য তা আদৌ প্রযোজ্য কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। খুব সাধারণ গল্প আর অল্প কিছু চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটিয়ে পুরো দুই ঘণ্টা আঠারো মিনিট দৈর্ঘ্য টানা হয়েছে, যার পরিণাম ছবির প্রথম এক-তৃতীয়াংশ অনুমেয়। তবে এর উপস্থাপনের ঢঙ অনেকাংশেই সিনেম্যাটিক।
মনপুরার কাহিনির বিভিন্ন অংশে যেমন অতিনাটকীয়তা আছে সেই সাথে বেশ কিছু অতিনাটকীয় চরিত্রেরও রূপায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে সোনাই ও পরী যে রাতে পালিয়ে যাবার পরিকল্পনা করে সে রাতেই পুলিশের হাতে সোনাইয়ের ধরা পড়া এবং শেষে পরী যে রাতে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে তার পরের সকালেই জেল থেকে ছাড়া পাওয়া অতিনাটকীয়তা তো বটেই।
কেন্দ্রীয় চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী ও ফারহানা মিলির সরল ও সাবলীল অভিনয় প্রশংসনীয়, যেহেতু দুজনেরই চলচ্চিত্রে অভিজ্ঞতা এই প্রথম। তবে গাজী সাহেব চরিত্রে মামুনুর রশীদ, হালিম চরিত্রে মনির খান শিমুল ও তার মায়ের চরিত্রে শিরীন আলমের অভিনয় আমাকে আশাহত করেছে। বিশেষ করে প্রথম দৃশ্যে হালিমের খুন করার ঘটনার পর তাদের আচরণ দেখে মনে হয়েছে যেন তাদের বাড়িতে এমন ঘটনা নিত্য দিনের। এ যেমন অভিনয় শিল্পীদের ব্যর্থতা তেমনি পরিচালকের অদক্ষতারও পরিচায়ক।
পরিশেষে
বাংলা মূলধারার চলচ্চিত্রের সুস্থ ছবির অভাব যে কতখানি প্রকট তা প্রমাণ করেছে মনপুরার অভাবনীয় সাফল্য। পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম জানেন কীভাবে একটি ছবিকে জনপ্রিয় করতে হয়। বাণিজ্যিক উপাদানগুলোকে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সেই সাথে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের উপচে পরা ভীড় উপহার দিয়ে মূলধারার এফডিসি কেন্দ্রিক চলচ্চিত্রের প্রতি মনপুরা ছিল সর্তকতা নির্দেশক তর্জনি বিশেষ। অশ¬ীলতা ও মারামারিতে ভরপুর মূলধারার সস্তা ছবিগুলো দর্শক চাহিদার খাতিরেই বানানো হয় - এই চালু কথাটি যে কতখানি বানোয়াট তা প্রমাণ করেছে মনপুরার দর্শকপ্রিয়তা। তবে সুস্থ ধারাই যদি কখনো হয়ে যায় মূলধারা তখনো এমন চলচ্চিত্র আবারো বক্স অফিস মাত করে কিনা ভবিষ্যতে সেটাই হবে দেখার বিষয়।

© 2016. www.oncinemabd.com | Editor & Founder Bidhan Rebeiro | oncinemabd@gmail.com | C: www.bidhanrebeiro.wordpress.com