চলচ্চিত্রাক্রান্ত মাহবুব আলমের চলচ্চিত্র ভাবনা

বই আলোচনা

বেলায়েত হোসেন মামুন

চলচ্চিত্র চর্চাবাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতিতে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের অবদান মূল্যায়নের সময় এসেছে। ১৯৬৩ সালে শুরু হয়ে এই ভূ-খ-ে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন পাড়ি দিয়েছে ৪৮ বছর। চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের এই পুরো সময়কে তিনটি পর্যায় ভাগ করা যায়। প্রথম পর্যায়ে স্বাধীনতাপূর্ব সময়কে, দ্বিতীয় পর্যায়ে স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৮০ সালে ‘চলচ্চিত্র সংসদ নিয়ন্ত্রণ আইন’ নামক কালাকানুন প্রণয়ন পর্যন্ত এবং তৃতীয় পর্যায়ে থাকবে কালাকানুনের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আন্দোলনের একটি নিবিড় বিশ্লেষণমুখী পর্যালোচনা। একটি দেশে প্রায় ৫০ বছরের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের ফলে সে দেশের অন্যান্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কী ধরনের সাংস্কৃতিক মানোন্নয়ন হল তা দেখা খুব অপ্রাসঙ্গিক তো নয়ই বরং পরবর্তী কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়। এই ধরনের কিছু ভাবনা কয়েকদিন ধরেই মাথায় কাজ করছে ‘ভাষাচিত্র’ প্রকাশনার চলচ্চিত্র ভাবনা বইটি হাতে পেয়ে। লেখক মাহবুব আলম।

মাহবুব আলমকে আমরা জানি আমাদের অগ্রজ চলচ্চিত্র সংসদকর্মী হিসেবে। চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে তিনি দ্বিকালদর্শী। এই আন্দোলনের সবচেয়ে প্রাগ্রসর সময়ে তিনি অগ্রবর্তীদের কাতারে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সমস্ত আমরা জানতাম। কিছুদিন পূর্বে মাহবুব আলমের আরো একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইটির নাম আমার দেখা ছবি। এতে সংকলিত হয়েছিল তাঁর বিভিন্ন সময়ে দেখা চলচ্চিত্র আলোচনা-সমালোচনা। আমার দেখা ছবি পড়ে বুঝতে পারি নি সামনে আরো কী অপেক্ষা করছে!

চলচ্চিত্র ভাবনা হাতে পাওয়ার পর সত্যিকার ভাবেই ভাবনাক্রান্ত হয়েছি। বাংলাদেশের সংস্কৃতি ভাবনায় সম্ভবত এমন ধারালো কিন্তু ভাষাগত সৌন্দর্যের আক্রমণাত্মক বই এ যাবৎ দেখা যায় নি। আর চলচ্চিত্র নিয়ে তো নয়ই। দেখা যাক কী আছে এই বইয়ে!

১৯৭৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত লিখিত বিভিন্ন চলচ্চিত্র সংক্রান্ত বিষয়ে প্রবন্ধ-আলোচনা-সমালোচনা-সাক্ষাৎকারের এক মূল্যবান সংকলন এটি। এতে রয়েছে ২২টি রচনা।

এই দ্বিকালদর্শী চলচ্চিত্র সংসদকর্মীর সংকলনটি প্রকাশের ভাবনা আমরা জানতে পারি বইটির ছোট্ট কিন্তু বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভূমিকা থেকে। তিনি বলছেন,

[...] চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন শুধু নয়, সমগ্র চলচ্চিত্রই এখন সংকটাবৃত। তবু থেমে নেই ভালো ছবি নির্মাণের প্রচেষ্টা। থেমে নেই চলচ্চিত্র সংসদকর্মীদের কর্ম-উন্মাদনা। এই সময় একজন আপাত-বিরত চলচ্চিত্র সংসদ কর্মী হিসেবে একবার মনে হলো পেছনে ফিরে তাকাবার-বর্তমান সময়কে সম্পর্ক-বিদ্ধ করার লক্ষ্যে। [পৃ. ৮]

বর্তমান সময়কে সম্পর্ক-বিদ্ধ করার তাঁর প্রয়াসে যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে তা বলা বাহুল্য। তাঁর ভূমিকা থেকেই এই ধারণা পরিষ্কার হয়েছে যে, বর্তমান সময় সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন, তিনি জানেন চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন শুধু নয়, আমাদের সমগ্র চলচ্চিত্রই এক মায়াময় কুয়াশায় আচ্ছন্ন। যেখানে ভালো অথবা মন্দ, আলো বা অন্ধকার কোনো কিছুই পরিষ্কার অর্থে বোঝা যায় না। এই ধোঁয়াটে পরিস্থিতি ক্ষণকালের তৈরি নয়; এরও যে একটি পরম্পরা রয়েছে তা বোঝা যায় এই বইয়ের সবগুলো রচনা এর কালবিবেচনা সমেত নিবিড় পাঠে।

এই গ্রন্থের সবচেয়ে পুরনো (বর্তমান সময় থেকে পূর্বে অর্থে) রচনাটি আমাদের চলচ্চিত্রের প্রবাদতুল্য জহির রায়হানকে নিয়ে লেখা, রচনাকাল জানুয়ারি ১৯৭৩। অর্থাৎ জহির রায়হানের নিখোঁজের এক বছরের মাথায় তিনি লিখছেন,

[...] জহির রায়হান। প্রয়োজনীয় সময়ের নিখোঁজ সংবাদ। তাই তিনি এখন স্মৃতির কার্নিশে পেরেকবিদ্ধ। [পৃ. ৯২]

গভীর চলচ্চিত্রঘনিষ্ট উপলব্ধি। আবার তিনি একই লেখার শেষের পর্যায়ে বলেছেন,

[...] তবে কি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র চত্বরের অনেকেই ভেবে আনন্দ পান যে, ‘জহির নেই’। এবং এ ধারণাটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তারা জহির প্রভিতার মূল্যায়নে (!) তৎপর। এবং আমরাও সেখানে বেঁচে আছি। একই আকাশের নিচে নিঃশ্বাস নিচ্ছি। ধড়িবাজ, কট্টর সমালোচক, রেশননির্ভর কেরানী, চোরাকারবারি, ভগ্নস্বাস্থ্য মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইত্যাদি অনেকে। [পৃ. ৯৩]

এখানেই মাহবুব আলম তাঁর চিন্তা ও দায়বদ্ধতার পরিষ্কার খতিয়ান দিচ্ছেন। একই পৃষ্ঠার আরেকটু নিচে তিনি বলছেন,

[...] জহির রায়হানকে নিয়ে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ লেখা অর্থহীন, যেহেতু জহির রায়হান একটি হতাশার জন্ম দিয়ে গেছেন প্রয়োজনীয় সময়ে নিখোঁজ সংবাদ হয়ে। [পৃ. ৯৩]

এই ভাষ্যকে তো এক দায়বদ্ধ আবেগী সহযোদ্ধার উচ্চারণ বলেই চিহ্নিত করা যায়। জহির রায়হান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছিলেন, মাহবুব আলমের পরবর্তী লেখার অর্থাৎ জানুয়ারি ১৯৭৪-এ তিনি লিখেছেন,

[...] আমাদের দুঃখ, জহির রায়হান তাঁর উত্তরসূরি রেখে যেতে পারেন নি একজনও। কিংবা তাঁর চলচ্চিত্র মানসকে স্পর্শ করতে পারেননি কেউ। জহির ব্যক্তিত্বের কাছেও আমাদের এ মধ্যবিত্ত পরাজয় জহির রায়হানের ব্যর্থতাকেই কি আলোকিত করে না? [পৃ. ৯৬]

জহির রায়হানের নিখোঁজ হবার সূত্রে পরপর তিন বছর তিনি তিনটি গদ্য রচনা করেছেন সমসাময়িক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কর্মকা--প্রবণতার নিবিড় বিশ্লেষণে। আশ্চর্য হতেই হবে এ লেখা তিনটির অন্তর্গত বিষয়ভাবনা লক্ষ করে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সম্ভাবনাকে শাণিত শব্দের তীব্র আক্রমণে তিনি উন্মোচিত করেছেন দরদি চলচ্চিত্রচেতনা থেকে।

এই গ্রন্থের অন্যান্য রচনার একটি বড়ো অংশ জুড়েই রয়েছে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের কথা। বাংলাদেশে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন বিকশিত হওয়ার সন্ধিক্ষণের চুলচেরা পর্যবেক্ষণ রয়েছে নানা ঘটনার আলোকে রচিত রচনাগুলোতে। ১৯৭৪ সালের নভেম্বরে রচিত একটি রচনার শিরোনাম ‘প্রতিক্রিয়াশীল সম্পাদকীয়র বিরুদ্ধে’, এই রচনায় ভাষাগত সৌন্দর্যের সঙ্গে তীব্র আক্রমণাত্মক ভাষায় তৎকালীন কোনো এক চলচ্চিত্র সাপ্তাহিকের সম্পাদকের সম্পাদকীয় মন্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। রচনাটি পাঠে এমন এক অনুভূতি হয় যেন গতকালের সমস্যার আলোকে রচনাটি লেখা হয়েছে। বর্তমানে এমন শাণিত শব্দের উচ্চকিত প্রতিবাদ তেমনভাবে চোখে পড়ে না। এখানেই তখনকার আন্দোলনকারী আর বর্তমানের একজন আন্দোলনকারীর বিস্তর ফারাক গোচরিভূত হয়।

সমস্যা আগেও যা ছিল এখনো তা কমে নি বা হয় নি কোনো সমস্যার সমাধান। চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন পূর্বের সময়ের তুলনায় এখন আরো সংকটাবৃত তা মাহবুব আলম উল্লেখ করেছেন তাঁর ভূমিকাতেই। তাই তাঁর ‘চলচ্চিত্র সংসদ নিয়ন্ত্রণ আইন’-এর প্রতিবাদে লেখা রচনাটির ৩০ বছর পূর্তির বর্তমান বছরেও ঐ কালাকানুন কালাকানুনই থেকে যায়। ফলে ৩০ বছর পূর্বে লেখা হলেও তার লেখার বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা এতটুকু ক্ষুণœ হয় না। বরং আরোও বেশি সময়োচিত বলেই মনে হয়। চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের মতোই ‘জাতীয় ফিল্ম আর্কাইভ’, ‘ফিল্ম ইনস্টিটিউট’, ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ ‘জাতীয় সংস্কৃতি বলয়’, ‘জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালার মতো অশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো আলোচনার পর্যায়েই রয়ে গেছে। বাস্তবায়িত হয় নি। ফিল্ম আর্কাইভ এখনো অপদার্থ সরকারি

আমলানির্ভরতায় চলচ্চিত্রের ভাগাড়ই রয়ে গেছে। বহু কথা বলা হয় কিন্তু কাজের ফিরিস্তি নেহায়েত অপুষ্টিআক্রান্ত।
ফিল্ম ইনস্টিটিউটের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করার মতো ক্ষমতা আমাদের এখনো গড়ে ওঠে নি, যদিও মাহবুব আলম ১৯৭৯ সালেই তা শুধু অনুভবই করেন নি, বাস্তবায়নেরও তাগাদা দিয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, হেনা-তেনা সবরকম পুরস্কারই বর্তমানে তিরস্কারে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে পুরস্কার পাওয়া আর দেওয়াকে এতো সস্তা আর দলাদলি নির্ভর করা হয়েছে যে বর্তমানে এ নিয়ে কেউ লিখতেও আগ্রহী নয়; যদিও মাহবুব আলম পুরস্কারের এই সস্তাকরণ ও দলাদলির কখা ১৯৭৪ সালেই লিখেছেন।

বইটি পাঠে আশ্চর্য হয়ে যেতে হয় যখন লক্ষ করি প্রতিটি রচনা বহুদিন পূর্বে লেখা হলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, চলচ্চিত্র সাংবাদিকতাসহ সামগ্রিক চলচ্চিত্র পরিস্থিতিতে সমস্যাগুলো এখনো বহাল তবিয়তে বিরাজিত রয়েছে। বইটিতে একটি রচনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে শিল্পকলা একাডেমী নিয়ে। শিরোনাম ‘শিল্পকলার ত্রিসীমানায় চলচ্চিত্রের অনুপ্রবেশ’। রচনাটিতে অভিযোগ করা হয়েছে এভাবে,

[...] একাডেমী তার প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণায় শিল্পকলার সবকটি শাখায় তার দায়িত্ব কার্যক্রমকে বিন্যস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সময় এ পর্যন্ত বছর এগিয়েছে। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমী এখনও তার ত্রিসীমানায় (সংগীত, নাটক, চিত্রকলা) থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তেমন চেষ্টাও নেই। সে কারণে একাডেমীর শিল্পকলায় চলচ্চিত্র অনাদৃত। [পৃ. ৭৩]

রচনাটি লিখিত হয়েছিল মার্চ, ১৯৭৭-এ। বর্তমান সময় পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমীর ওপর থেকে এ অভিযোগ দূর করা যায় নি; আর তাই বর্তমান সময়েও মাহবুব আলমের এ রচনাটি ঝকঝকে-তরতাজা।
শিল্পকলা একাডেমীর একটি চলচ্চিত্র বিভাগ রয়েছে অন্যান্য বিভাগের মতোই। কিন্তু এই চলচ্চিত্র বিভাগ থেকে অদ্যাবধি কোনো চলচ্চিত্রবিষয়ক কাজ করা হয়েছে বলে জানা যায় নি। কিন্তু এই বিভাগ চালানোর জন্য প্রতিবছর বাজেট হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজনও রয়েছেন এবং তাঁরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু কোনো কাজ করতে হয় না তাঁদের। মাহবুব আলম ঐ রচনার শেষ অংশে ৩৩ বছর আগেই এর সমাধান দিয়েছিলেন এভাবে,

[...] তা নয়তো অবিলম্বে শিল্পকলা একাডেমীর নাম পরিবর্তন করে সংগীত-নাটক ও চিত্রকলা একাডেমী’ রাখা হোক, তাতে অন্তত নামের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যাবে’। [পৃ.৭৪]

এই বইয়ে রয়েছে দুটি সাক্ষাৎকারÑএকটি সত্যজিৎ রায়ের, অন্যটি মৃণাল সেনের।

সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎকারটি একটি সু-সম্পাদিত গদ্যের ভঙ্গিতে আলাপ-আলোচনার মতো করে লেখা হয়েছে যা থেকে অন্যরকম এক অনাস্বাদিত সৌন্দর্যলাভ ঘটে। ঘরোয়া আমেজে সত্যজিৎ-সান্নিধ্য পাঠককে সুন্দর ভাবেই আপন করে নেয়।

মৃণাল সেনের সাক্ষাৎকারটি একটি দুর্লভ অভিজ্ঞতা হিসেবেই পাঠককে আনন্দিত করবে। আদ্যোপান্ত ত্রিকালের চলচ্চিত্রপুরুষ হিসেবেই মৃণাল সেন পাঠকের ভাবনায় ধরা দেবেন। সেই সঙ্গে পাঠক উপলব্ধি করবেন সাক্ষাৎকার-গ্রহিতার চলচ্চিত্র বিষয়ে জানাবোঝার দিগন্তবিস্তৃত চলচ্চিত্র চেতনাকে। মৃণাল সেনের যতগুলো সাক্ষাৎকার এ-যাবৎ প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে এই সাক্ষাৎকারটি যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তা আমাদের স্বীকার করতে হবে। এই বইয়ের আরো অনেক রচনার মতো এই সাক্ষাৎকারটিও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পাঠক ও চলচ্চিত্রঘনিষ্ঠ সকলের চেতনার গ্রাফকে শাণিত করবে। একইভাবে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক এই বইটি বর্তমান সময়কে বোঝার জন্যও অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

বইটির প্রকাশে তাড়াহুড়োর ছাপ এর সারা শরীর জুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এ ধরনের বই প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো বেশি যতœশীলতা প্রয়োজন। কেননা এর ভেতরে যে-সকল গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা একেবারেই অপরিণত পর্যায়ের, অঙ্গসৌন্দর্য বৃদ্ধি না করে তা খারাপ ছাপা, ছবি বসানোর পরিকল্পনাহীনতায় দৃষ্টিকটু বলেই মনে হয়েছে। প্রচ্ছদশিল্পী সব্যসাচী হাজরা বিষয়ঘনিষ্ঠ প্রচ্ছদ পরিকল্পনায় আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করেছেন। চমৎকার প্রচ্ছদের গুণে বইটি সহজেই নজর কাড়ে। তথাপি বর্তমান সময়ের প্রাসঙ্গিক এবং চেতনাঋদ্ধ বইটি প্রকাশের সিদ্ধান্তের জন্য সবসময়ের আন্দোলনকর্মী অগ্রজ মাহবুব আলমকে এবং প্রকাশককে অভিনন্দন।

নিশ্চিত জানি বইটি বর্তমান কুয়াশাচ্ছন্ন চলচ্চিত্র পরিস্থিতিতে অনেকের জন্যই দিকনির্দেশনামূলক কাজ হয়ে ধরা দেবে। পাঠকপ্রিয়তা পাবে এর রচনাসমূহে দৃঢ়-চেতনাসমৃদ্ধতার গুণে।

(প্রথম প্রকাশ: অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক বুধবার)

© 2016. www.oncinemabd.com | Editor & Founder Bidhan Rebeiro | oncinemabd@gmail.com | C: www.bidhanrebeiro.wordpress.com