ওসমান সেমবেন ও আফ্রিকার চলচ্চিত্র

সাক্ষাৎকার

হাসান জাফরুল

Image প্রথমদিককার আফ্রিকান ফিল্ম বেড়ে উঠেছিল শ্বেতাঙ্গদের হাতে, ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাসের সঙ্গে তা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। ওই সময়ে ইউরোপীয়ানরা ফিল্মকে ব্যবহার করতো নিজেদের শাসনের বৈধতার যুক্তি উৎপাদনে। কখনোবা অশ্বেতাঙ্গদের ‘সভ্য’ করার প্রমাণ হিসেবে। আবার কখনো পশ্চিমা দর্শকদের উদ্ভট রস সরবরাহের জন্য আফ্রিকাকে ব্যবহার করা হতো। এভাবেই ভিনদেশী শাসকরা আফ্রিকার এক লাঞ্ছিত, অবমাননাকর ইমেজ তৈরি করে। এই ইমেজ ভাঙতে এবং নিজেদের পাল্টা ইমেজ গড়তে যে ক’জন চলচ্চিত্রকার কাজ করতে এগিয়ে এসেছিলেন তাদের মধ্যে ওসমান সেমবেন অন্যতম। সম্ভবত মহত্তমও।

আফ্রিকার ছোট্ট দেশ সেনেগালের কাসামান্সে ওসমান সেমবেন জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৩ সালে। পারিবারিক পেশা ছিল মৎসজীবিতা। স্কুলের গন্ডি পেরুবার আগেই তাকে নিয়ম-শৃঙ্খলা ভাঙার জন্য স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়। মেকানিক, রাজমিস্ত্রি (ছবি তৈরি ছিল তার ৪৫তম পেশা) এসব পেশার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকেন। ততোদিনে সেমবেনের পরিচয় ঔপন্যাসিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায়। ১৯৬২ সালে তিনি গোর্কি ফিল্ম ইন্সটিটিউটে ছবি নির্মাণের ওপর পড়াশোনা করতে যান। ফিরে এসে সিনেমা তৈরির কাজে নেমে পড়েন। আফ্রিকার প্রথম ফিচার ফিল্ম (ব্লাক গার্ল), প্রথম রঙিন ছবি (মানি অর্ডার) নির্মাণের কৃতিত্ব তার। সেমবেন মোট ১৪টি ছবি নির্মাণ করেন। সেমবেন মারা যান ২০০৭ সালে। মুলাদে তার শেষ ছবি। এই ছবি নিয়েই কথা বলেছেন সাম্বা গাজিগোর সঙ্গে। এ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় ২০০৪ সালের ১১ এপ্রিল।

সাম্বা গাজিগো : জনাব সেমবেন মুলাদে ছবিটি আপনার ক্যারিয়ারে আপনার প্রতিদিনকার সংগ্রামে-সুনির্দিষ্টভাবে কি যুক্ত করে?

ওসমান সেমবেন : না, আমি জানি না এই সিনেমা উদ্দেশ্যে উপায় হিসাবে কেমন। আমি আপনাকে এর বিষয়বস্ত্তর ওপর ভিত্তি করে বলতে পারি- এই ছবি ট্রিলজীর দ্বিতীয় অংশ। আমার কাছে এটা প্রতিদিনের যাপিত জীবনের যে নায়কোচিত ভাব; সে ভাবের রূপ এঁকেছি। এখন আফ্রিকা এক প্রসারমান যুদ্ধের মধ্যে আছে, এটা সবাই জানে- বিশেষত তা চলছে সাহারার দক্ষিণে। সেখানেও জীবন আছে, জীবন চলছে; তবুও প্রতিদিনকার জীবন যাপনের ধাক্কায় জনসাধারণ তা ভুলে যায়। জনতা তাদের কথা মনেও রাখে না। অন্যরা আমাদের বুঝাতে চায় আমরা নীরস জীবন যাপন করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত- এটা অন্তঃস্রোতের মতো প্রবহমান সংগ্রাম; এই সংগ্রাম জনতার, এই সংগ্রাম অন্যান্য অঞ্চলের জনতার সংগ্রামের মতোই – যাকে আমি বলি প্রতিদিনের যাপিত জীবনের নায়কোচিত ভাব। এই বীরদের কোনো দেশ, জাতি মেডেল দেয়নি… তাদের জন্য কোন ভাস্কর্যও নির্মাণ করা হয়নি। এটাই আমার কাছে ট্রিলজির প্রতীকী দিক। আমি এর মধ্যে দুটি অংশ তৈরি করেছি ফাত্ কিনে এবং এখন এই মুলাদে- এবার আমি তৃতীয় অংশটার জন্য প্রস্ত্ততি নেব।

গ্রামীণ পরিবেশই মুলাদে ছবির মূল পটভূমি – একটি গ্রাম – সবুজ আফ্রিকার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই আফ্রিকা যখন এর জীবন যাপন করে তখন অন্যান্যের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। সুতরাং আমাদের আছে কিছু বহির্মুখী প্রেরণা যা আফ্রিকানদের মধ্যে পরস্পর দ্বন্দ্ব করে। একটা হচ্ছে ট্রাডিশনাল – মেয়েদের খাৎনা। এটা অনেক প্রাচীনতার ইঙ্গিতবহ – যীশুর আগে হেরোডেটাসের সময়ে… এটা ঐতিহ্য। এটা মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল… আমার বিচারে নারীদের পরাজয়ের ধারাবাহিকতায়…

আর অন্য মূল্যবোধটি হচ্ছে- দুর্বলকে রক্ষা করার অধিকার – এটাও মানবিক অস্তিত্বের মতোই পুরনো। যখন দুটি মূল্যবোধ মুখোমুখি হয়, বহুস্তরীভূত হয়, দ্বন্দ্ব করে- আপনি দেখবেন তখন আমাদের সমাজই প্রতীকায়িত হচ্ছে। আধুনিক উপাদান এবং আমাদের একান্ত সাংস্কৃতিক স্তম্ভ হতে আহরিত উপাদানসমূহ… এসবের শীর্ষে আর যেসব উপাদান সুপার স্ট্রাকচার বিরাজ করে লক্ষণীয়ভাবে তার একটি ধর্ম। এই গ্রুপ, এই ফিল্ম-এর পাল উড়িয়ে দেয়ার জন্য এগুলোই হচ্ছে পানি।

সাম্বা গাজিগো : আপনার প্রথম উপন্যাস দি ব্ল্যাক ডকার (১৯৫৬)। তাতে ‘দি মাদার’ নামে প্রথম অধ্যায় ছিল, সেই সময় হতেই আপনি সুনির্দিষ্টভাবে জোর দিয়েছিলেন নারীদের প্রতি – আফ্রিকান নারীদের বীরত্বের প্রতি। এ বীরত্ব আবার কেন ঘটল- বারবার কেন এরকম ভাব সংঘটিত হয় আপনার ছবিতে?

ওসমান সেমবেন : আমি মনে করি আফ্রিকা মাতৃতান্ত্রিক। আফ্রিকান পুরুষ প্রচন্ডভাবে মাতৃতন্ত্রে আসক্ত; তার মাকে ভালবাসে সে; মায়ের নামে দিব্যি দেয়। যখন কেউ কারো বাবা নামে কটাক্ষ করে তখন হয়তো মানুষটা তা গ্রহণ করে কিন্তু যদি কখনো মায়ের সম্মান বিঘ্নিত হয়- যদি না সে মাকে সেই অসম্মান থেকে রক্ষা করতে পারে তবে মানুষটা ভাবে তার বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই। আমাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী – একজন পুরুষের স্বকীয় মূলবোধ নেই – সে মার কাছে থেকে তার মূল্যবোধ গ্রহণ করে। ভালো স্ত্রী, ভালো মা, বশীভূত মা তার স্বামীকে এবং তার পরিবারকে কিভাবে রক্ষা করতে হয় তা জানেন। মা-ই আমাদের সমাজকে শরীরী করে… আফ্রিকান সমাজ অতি মাতৃতান্ত্রিক- এটাই আমার ভাবনার ধারাবাহিকতায় বহন করে চলেছি। তারা বলে – আমাকে- প্রত্যেক পুরুষ ভালোবাসে নারীকে। আমরা তাদের ভালোবাসি।

সাম্বা গাজিগো : প্রায় অনিয়মিত আফ্রিকান ৫০টি রাষ্ট্রের মধ্যে ৩৮টিরও বেশি রাষ্ট্র অভ্যাস করে বিচ্ছেদ নীতির। তবুও আপনার পছন্দ বারকিনো ফাসো এবং জেরিস্যু; যখন আপনি অনায়াসে অন্য কোথাও এই ছবি তুলতে পারতেন। কেন জেরিস্যু?

ওসমান সেমবেন : আমি অন্য কোথাও এই ছবি তুলে ফেলতে পারতাম কিন্তু এই সজ্জা পেতাম না যা আমি খুঁজছি। অন্য কোথাও নয়- এখানে ছাড়া। আমার সৃষ্টিশীল আকাঙ্ক্ষাকে সাড়া দেওয়ার জন্য খুব সবুজ সাধারণ গ্রাম খুঁজে পেতে চেয়েছি। আমার কেন কালো গোলাপ অাঁকা উচিত নয়? আমি হাজার কিলোমিটার পথ ভ্রমণ করেছি। আমি বারকিনো ফাসো, মালি, গিনি এবং গিনি বিসাউ গিয়েছি। ‘এটাই সেই গ্রাম’- গ্রামটা দেখামাত্রই নিজেকে বলেছি। কিন্তু এখানে আরো আছে- গ্রামের কেন্দ্রে অবস্থিত সজারু সদৃশ মসজিদ – এটা সাব সাহারান অঞ্চলের দুর্দান্ত স্থাপত্য কর্ম। এই স্থাপত্যকর্ম অবশ্যই বাইরের অনুপ্রেরণায় তৈরি নয়। আমরা ঋণী উই পিঁপড়ার ঢিবিগুলোর প্রতি – যা মুলাদে ছবির প্রতীক।

সাম্বা গাজিগো : যাই হোক মার্সেইয়ের সিজিটি লাইব্রেরিতে আপনি আবিষ্কার করলেন মহৎ লেখকদের। পরে আপনি নিজেই লেখালেখির সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তারপর সিনেমা করা…

ওসমান সেমবেন : না, না! লেখালেখির প্রতি সম্মান রেখেই…ওটা রাজনৈতিক কার্যক্রমের একটা স্তরেই সীমায়িত ছিল। কারণ এই সমস্ত লাইব্রেরির – তখন আমি যুবক ছিলাম – ঐ বইগুলো আমাকে বলতো- আফ্রিকার কলাগাছ, উদ্ভট আফ্রিকা, ভালো কালো, আর ঐ কালো শিশু যারা কখনো বুড়ো হতো না- তাদের সম্বন্ধে। আমি জানতাম গল্পগুলোতে কারা যুদ্ধ করেছিল এবং তারা মোটেই নিষ্ক্রিয় ছিল না। সুতরাং আমি সহজেই বলে ফেললাম- ‘না এটা তেমন নয়- যেখান থেকে আমি এসেছি। সত্য যে আফ্রিকায় নারকেল গাছ আছে, কলাগাছের নৌকা আছে কিন্তু সর্বোপরি মানুষ আছে সেখানে, – আমরা পিঁপড়ের দল নই।’ এভাবেই এবং এ কারণেই – আমি ত্যাগ করলাম তোমাকে তোমার ফ্রয়েডিয়ান ব্যাধিসহ…

সাম্বা গাজিগো : ফ্রয়েড সম্ভবত… কিন্তু আমি খুব সন্তুষ্ট যে আপনি ঐ মুহূর্তে সচেতনভাবে পছন্দ করেছিলেন এবং রাজনৈতিক কর্মক্ষেত্র থেকে নিজেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করে শিল্পের পথে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

ওসমান সেমবেন : আহ্ রাজনীতি… হ্যাঁ কিন্তু এটা মূলত পছন্দ। সংস্কৃতি পুরোপুরি রাজনৈতিক কিন্তু এটা অন্য প্রকারের রাজনীতি। আপনি অবশ্যই সংস্কৃতির পছন্দের দ্বারা যুক্ত হন না। আপনি এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন না স্রেফ ‘আমি’ বলতে। শিল্পে আপনি অবশ্যই রাজনৈতিক কিন্তু আপনি বলেন ‘আমরা’। অবশ্যই ‘আমি’ নয় ‘আমরা’। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে – মানুষ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি সৃষ্টি করে। তারা তাদের স্বর্গকে চিহ্নিত করে এবং এগোয়। তাই যখনই আমি সংস্কৃতির এটা আবিষ্কার করি আমি এটা কাজে লাগাই।

সাম্বা গাজিগো : আপনি প্রায়ই বলেন- সিনেমা যতো না সাহিত্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ তার চেয়ে বেশি গাণিতিক। এটা একই সঙ্গে শিল্পকলা অর্থে কলা আবার ইন্ডাস্ট্রি অর্থেও কলা… তো আফ্রিকান সিনেমার অবস্থান এখন কোথায়? কী নির্দেশ এটা এখন দিচ্ছে?

ওসমান সেমবেন : আমি আপনাকে বলতে পারি না; কিন্তু একটা ব্যাপার নিশ্চিত; আমরা সাফল্যের কাছাকাছি আছি। কীভাবে, কখন? আমার কোনো আইডিয়া নেই! পথ সোজাসুজি, ঊর্ধ্বগামী না খাদে? কিন্তু আমরা সাফল্যের জন্য শক্তি প্রয়োগ করতে পারি। কারণ এটা এমন এক শতাব্দী – যখন একটি মানুষ কথা বলতে পারে না তখন সে অদৃশ্য হতে বাধ্য। না! আমরা তা হতে দিতে পারি না এবং তা হওয়া উচিতও নয়।

সাম্বা গাজিগো : আমরা দাসত্বের অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে গিয়েছি; আমরা ঔপনিবেশিকীকরণের মধ্য দিয়েও গেছি; এখন এই সময়ের অভিজ্ঞতা হচ্ছে নয়া ঔপনিবেশিকীকরণ এবং বিশ্বায়ন। সব সময়ই তো আফ্রিকার মানুষ আঘাতে জেগে উঠেছে। ওসমান সেমবেন, কোথায় আমরা শক্তি ফিরে পেতে পারি?

ওসমান সেমবেন : আমি জানি না, বলতেও পারব না। কিন্তু আপনি এইমাত্র যা বললেন তার উপর যে যথেষ্ট মনোনিবেশ করা দরকার। এখন পর্যন্ত আফ্রিকা সবসময়ই জেগে উঠেছে কিন্তু এই নতুন শতাব্দী খুবই বিপজ্জনক শতাব্দী; বর্তমান পর্ব খুবই শঙ্কাজনক এই মহাদেশের জন্য। চার্চের আশীর্বাদ পেয়েছিল দাস ব্যবস্থা এবং গৃহীত হয়েছিল ইউরোপীয়ানদের দ্বারা। আপনি এটা খুঁজে পাবেন বাইবেলে, কোরআনে এবং এমনকি তালমুদে। ইউরোপ ঔপনিবেশিকরণের সঙ্গে টুকরো টুকরো করে আফ্রিকাকে, আফ্রিকার সম্পদ লুটে নেয়ার জন্য। আঠার ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপীয়ানরা কয়েকবার আফ্রিকাকে টুকরো টুকরো করে। ফ্রান্স, ইতালী, ইংল্যান্ড, জার্মানি নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছিল আফ্রিকাকে। দাসত্বের কালে এইসব দেশের প্রত্যেকের আফ্রিকান উপকূলে নিজেদেরর নিজস্ব এলাকা ছিল। এখন ইউরোপ একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। এই একই ইউরোপ আমাদের বিভক্ত করেছে। এই একই ফ্রান্স ১৭৮৯ সালে স্বাধীনতার কথা, মানুষের অধিকারের কথা বলেছিল তবে তা শুধুই তাদের জন্য- আফ্রিকানদের জন্য নয়। তারা নিয়মিতভাবে দাসত্ব এবং পরে ঔপনিবেশিকীকরণের অনুশীলন করে গেছে। বিশ্বায়ন এরকম, নয়। একদা আবার আমরা নিজেদের নিষ্পেষিত অবস্থায় খুঁজে পাই, আমাদের সেই আদিম প্রাচুর্য- যা ইউরোপ চায়! আরো একবার আমরা যুদ্ধের অবজেক্ট হয়ে দাঁড়িয়েছি। আফ্রিকায় এর চেয়ে কষ্টকর চিন্তা একালে আর কি আছে! শতবর্ষীয় দাস এবং ঔপনিবেশিক যুগের সময় থেকে বেশি মানুষ ১৯৬০ সাল থেকে এ পর্যন্ত খুন হয়েছে। এখন সবাই বলাবলি করছে বিশ্বায়নের ব্যাপারে… কিন্তু কতোটুকুই যথেষ্ট আমাদের অঞ্চল, যাকে ডাকা হয় ফ্রাংকোফোনী নামে- তা গিলে ফেলার জন। আমাদের নেতাদের – আমি বলবো- প্রায় সবারই ইউরোপে বাড়ি আছে। দেশের ভিতরে ছোটখাটো সমস্যা তৈরি হলে প্রত্যেকেই প্রস্ত্তত ইউরোপে অবসরে যাওয়ার জন্য। আমরা বিশ্বায়নে উদ্বিগ্ন নই- এমনকি আমরা টেনেটুনে চলার অবস্থায়ও নেই। সমস্যাটা যতো না অর্থনৈতিক তার চেয়ে বেশি মানসিক। যখন আফ্রিকানরা নিজেদের মধ্যে বিনিময় করতে পারে না – পারে না পাশের দেশের সঙ্গে ভাব বিনিময় করতে – এটাই বড় সমস্যা এখানে। তারা কথা বলে বাজার সম্বন্ধে যা গঠিত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্বারা- যার ভোক্তার সংখ্যা ২৫ কোটি। আর আফ্রিকায় আমাদের সম্ভাব্য বাজারের ভোক্তার সংখ্যা ৯০ কোটি। অর্থনৈতিক নিয়ম এবং পদার্থবিদ্যার নিয়ম সব জায়গায়ই এক – সব সংস্কৃতিতে সব সময়।

সাম্বা গাজিগো : ১৯৬০ সাল থেকেই আপনি আমাদের জাতীয় ভাষার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে আসছেন। সত্তুরের দশকে অন্য কয়েকজনের সঙ্গে মিলেমিশে ওলোফ ভাষার কাদ্দু নামের সংবাদপত্র করেছিলেন- এ বছর প্রকাশিত হলো বুবকার মরিস দিওপের দোমিগোলা নামে ওলোফ ভাষার প্রথম উপন্যাস। বিভিন্ন প্রাইভেট রেডিও স্টেশনে মানুষ নানা কাজ করছে ওলোফ, পুলার, বাম্বারা ভাষায়…। যদি আমাদের রাজনৈতিক ইচ্ছা আজও থেকে থাকে- আমরা কী আমাদের ভাষাসমূহের সাধারণ শিক্ষা চালু করতে পারি না?

ওসমান সেমবেন : আপনি বললেনই ‘যদি’… আপনিতো ফ্রান্সে শিক্ষকতা করেন- আপনিই বলেন ‘যদি’ দ্বারা কি বুঝায়? আমাদের রাজনৈতিক নেতারা তাই চায় না। এক মুহূর্তের জন্য কল্পনা করুন- সাহারার দক্ষিণ অঞ্চলজুড়ে একটা আফ্রিকান ভাষা সরকারী ভাষার মর্যাদা পেয়েছে- তাহলে যে আমাদের অধিকাংশ নেতাই আর নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবেন না। তখন কৃষকরাই নেতৃত্ব দেবে কারণ বর্তমান নেতৃত্বের বেশিরভাগ মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারে না।

সাম্বা গাজিগো : আপনাকে ধন্যবাদ।

(প্রথম প্রকাশ: অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক বুধবার)

© 2016. www.oncinemabd.com | Editor & Founder Bidhan Rebeiro | oncinemabd@gmail.com | C: www.bidhanrebeiro.wordpress.com