রাজনীতি সচেতন একজন চিত্র পরিচালকের প্রয়াণ

ইতিহাস

ফ্লোরা সরকার

Imageখুব ছোট ও দ্রুত কাটিংয়ের হলিউডি ছবির বিপরীতে গ্রিসের সদ্য প্রয়াত পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক থিও অ্যাঞ্জেলোপোলাসের দীর্ঘ টেকের ছবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ততটা পরিচিত নয়। তবে অ্যাঞ্জেলোপোলাস আশা করেন, ‘নতুন ধরনের দর্শক তৈরি হবে। তারা শুধু আবেগী কনজিউমার না হয়ে বরং এমন দর্শক হবেন যারা মনের ব্যবহার জানেন।’ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নয়, তার পরিচিতির ব্যাপ্তি অন্য কোথায়ও খুব বেশি প্রসারিত নয়। কেননা থিও অ্যাঞ্জেলোপোলাসের ছবি শুধু ফেস্টিভালে দেখা ছাড়া ডিভিডিতে খুব একটা পাওয়া যায় না। অথচ পৃথিবীর হাতেগোনা কয়েকজন শ্রেষ্ঠ নির্মাতার মধ্যে তিনি একজন। যার সঙ্গে তুলনা চলে রাশিয়ার অন্যতম চিত্রপরিচালক তারকোভস্কির সঙ্গে। তারকোভস্কি যদি সিনেমার দার্শনিক-কবি হন, অ্যাঞ্জেলোপোলাস হলেন সিনেমার ইমেজ এবং সাউন্ডের দার্শনিক-কবি। ছবি শুধু ছবির ভাষায় কথা বলবে- এই ছিল তার রীতি বা পদ্ধতি, যা সিনেমার জন্য একটি অপরিহার্য অংশ।

পৃথিবীর সব মহৎ এবং সৎ শিল্পীদের মাঝে নিজেদের খুঁড়ে খুঁড়ে দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তারকোভস্কি যেমন দেখতে চেয়েছেন আমাদের সবকিছু নিয়ে কেন আমরা অপরের কাছে প্রকাশিত হতে পারি না ( যেমন- স্যাক্রিফাইস ছবিতে) ঠিক তেমনি অ্যাঞ্জেলোপোলাস দেখতে চেয়েছেন তার প্রিয় মাতৃভূমি গ্রিসের অন্তর-বাহির। যে কারণে অ্যাঞ্জেলোপোলাস প্রাচীন গ্রিক মিথলজি এবং ইতিহাসের দিকে বারবার ফিরে তাকিয়েছেন। যে কারণে তার ছবিতে অতীত এবং বর্তমানের মিশেল ঘটেছে। এবং এই কারণেই তাকে রাজনীতি সচেতন পরিচালক হয়ে উঠতে হয়েছে।

তার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন ‘রাজনীতিকে আমি কখনোই মোটা দাগে দেখি না। ওইভাবে রাজনীতিকে দেখা আমি বন্ধ করে দিয়েছি’। রাজনীতি সম্পর্কে এই নতুন সচেতনতার বিশেষ কারণও বিদ্যমান। অ্যাঞ্জেলোপোলাস যে সময়ের সন্তান সেই সময়টিই তাকে এই সচেতনতা দান করেছে। ২০১১-এর নভেম্বরে ধারণকৃত একটি বুলগেরিয়ান টিভি চ্যানেলে বুলগেরিয়ান লেখক ইভান কুলেকভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘সময় হচ্ছে আমাদের প্রতিবিম্ব এবং আমি বিশ্বাস করি গ্রিসের ভবিষ্যৎ সময় আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। সেটা শুধু এখানকার দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে নয়, এর সঙ্গে জড়িত আছে রাজনৈতিক সংকট এবং গ্রিসের মূল্যবোধের সংকট’। এখানে একটি কথা না বললেই নয়, আর তা হলো- পৃথিবীর সব দেশকেই কোনো না কোনো সময়ে বিশেষ ঝড়ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময় অতিক্রান্ত করতে হয় কিন্তু খুব কম শিল্পীই সেই সময়গুলোকে ধরার চেষ্টা করেন। থিও অ্যাঞ্জেলোপোলাস সেই বিরল প্রতিভাবানদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। গত ২৪ জানুয়ারি (২০১২) ৭৬ বছর বয়সে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এই প্রতিভাবান শিল্পীর মৃত্যু ঘটে। আমরা তার মৃত্যুর সমবেদনা জানিয়ে তার জীবন ও কর্মজীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

থিও অ্যাঞ্জেলোপোলাসের জন্ম গ্রিসে, ১৯৩৫ এর ২৭ এপ্রিল। তার শৈশবজুড়ে আছে বিমান হামলার সতর্কীকরণ সাইরেন, জার্মানদের এথেন্স অভিযান, যুদ্ধের সময়ে অতিবাহিত কঠোর জীবন, ক্ষুধা ইত্যাদি। বাবা ছিলেন মুদি দোকানি। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও শান্তি এলো না গ্রিসে। ১৯৪৪-এ নতুন করে গৃহযুদ্ধ শুরু হলো, কমিউনিস্ট এবং অভিজাততন্ত্রীদের মধ্যে। বাবা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি পক্ষপাত করায় হঠাৎ নিখোঁজ হলেন। অনেক পরে অবশ্য আবার তার সন্ধান পাওয়া যায়। ১১ বছরের বোন ভৌলা অপুষ্টিতে মৃত্যুবরণ করল। বাবার এই নিখোঁজ হওয়া তার ছবিতে এসেছে বার বার। যেমন- রিকন্সট্রাকশন, ভয়েজ টু সিফেরা, দ্য সাসপেন্ডেড স্টেপ টু দ্য স্টোর্ক, ‘ল্যান্ডস্কেপ ইন দ্য মিস্ট’ ইত্যাদিতে।

চাচার আইন ব্যবসার উত্তরাধিকার তার কাঁধে এসে বর্তায় এবং এথেন্সে চলে যাওয়ার তাগিদ আসে আইন পড়ার জন্য। কিন্তু তিনি চলে যান প্যারিসে সাহিত্য, চলচ্চিত্র আর নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার জন্য। কেননা চলচ্চিত্রের প্রতি একটা ভালোবাসা ইতোমধ্যেই তার ভেতর গড়ে উঠেছিল। তার নিজের ভাষায়, ‘সময়টা ১৯৪৬/৪৭ হবে। যুদ্ধের পরের সেই দিনগুলোতে মানুষ প্রচুর ছবি দেখতে যেত। আমরা ছোটরা বড়দের লম্বা লাইন আর ভিড় ঠেলে সুড়ুৎ করে ব্যালকনির জাদুময় অন্ধকারে হারিয়ে যেতাম। অনেক ছবি দেখেছিলাম তখন। কিন্তু মিশেল কার্টিজের ‘অ্যাঞ্জেল উইথ দ্য ডার্টি ফেস’-এর একটি দৃশ্য আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়ে যায়। দৃশ্যটি ছিল এরকম- ছবির নায়ককে দুজন গার্ড ইলেট্রিক চেয়ারে বসানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছে। তারা যত যাচ্ছে তাদের ছায়া তত দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। হঠাৎ একটা আর্ত-চিৎকার- ‘আমি মরতে চাই না, আমি মরতে চাই না’। বহুদিন সেই চিৎকার আমার কানে বাজত। সেই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর ছায়া আর সেই চিৎকার সিনেমা হয়ে আমার জীবনে ঢুকে পড়ল’।

সরবোনে, ক্ল লেভি স্ত্রোসের ছাত্র হয়ে কিছুদিন পড়াশোনা করেন। ১৯৬২-তে প্রেস্টিজিয়াস ফরাসি আকাদেমি ‘ইনস্টুট দ্য হতেস ইতুদ্যে সিনেমাতো গ্রাফিস (IDHEC)-এ পাঠ নিতে যান। কিন্তু ঔদ্ধত্য এবং শৃঙ্খলাহীনতার কারণে প্রথম বছরেই বহিষ্কৃত হন। সেই সময়েই নামকরা এথনোগ্রাফার এবং ডকুমেন্টরিয়ান জাঁ রচ ম্যুসি দ্য ল ও মে একটা ওয়ার্কশপ করছিলেন। অ্যাঞ্জেলোপোলাস সেখানে ছবির ওপর টেকনিক্যাল শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেই সময়েই তিনি রচের ইনস্টিটিউটের অধীনে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’ নামে একটি শর্টফিল্ম নির্মাণ করেন। সেই সময়ে ফরাসি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে স্থান করে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অ্যাঞ্জেলোপোলাস ১৯৬৪-তে এথেন্সে ফিরে আসেন এবং বামঘেঁষা একটি পত্রিকা ‘দেমোক্রাতিক আলাঘি’-তে চলচ্চিত্র সমালোচনার দায়িত্ব নেন। ১৯৬৭-তে সামরিক জান্তা কর্নেল পাপাডোপোলাস কর্তৃক পত্রিকাটি বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সেখানে কর্মরত থাকেন। ১৯৬৮-তে ‘ব্রডকাস্ট’ নামে আরেকটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যা তেসালনিকি ফিল্ম ফেস্টিভালে সমালোচক পুরস্কার পায়।

১৯৭০-এ প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র ‘রিকনস্ট্রাকশন’ নির্মাণ করেন। যেখানে গৃহহীন আর বাস্ত্তচ্যুত মানুষের জীবন তুলে ধরা হয়েছে। রিকন্সট্রাকশন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কর্নেলের ডিক্টেটরশিপের সময় খন্ড খন্ড বাস্তবতাকে জোড়া দিয়ে সত্য খোঁজার প্রয়াস থেকে আমার প্রথম কাহিনীচিত্রের জন্ম। লক্ষ্যে পৌঁছানো নয়, বরং একটা যাত্রার শুরু ছিল কেবলমাত্র’। একই বছর নির্মিত হয় তার অন্যতম আরেকটি ছবি ‘ডেইজ অব থার্টিসিক্স’। ছবিটি সম্পর্কে বলেন, ‘…যখন ডেইজ অব থার্টিসিক্স নির্মাণ করছিলাম তখন ছিল স্বৈরশাসনের সময়। এই স্বৈরশাসন সরাসরি দেখানো ছিল অসম্ভব। তাই আমাকে ছবির গোপন ভাষা খুঁজে বের করে নিতে হয়েছিল। আর তা ছিল ইতিহাসের ইঙ্গিত। দমনপীড়ন। এসথেটিক প্রিন্সিপাল হিসেবে বক্রোক্তি ও শ্লেষ। এমন একটা ছবি যেখানে সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে যাচ্ছে অফ ক্যামেরায়’। ১৯৭৫ সালে নির্মাণ করলেন ‘দ্য ট্রেভেলিং প্লেয়ার্স’- যেখানে ইতিহাসের একটা বড় অংশ ১৯৩৯ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত সময়কে তুলে ধরা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে গ্রিসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে, ১. ১৯৩৬-৪১ : স্বৈরশাসনের সময় যেটা গ্রাসের সময়। ২. ১৯৪১-৪৪ : জার্মান দখলদারিত্ব এবং ৩. ১৯৪৪-৪৯ গৃহযুদ্ধ। ১৯৮০ সালে নির্মাণ করেন ‘মেগা লেজান্দ্রোস’। যেখানে ইতিহাস এবং মিথকে পাশাপাশি রেখে নির্মিত হয় ছবিটি। ইতিহাস (উনিশ শতকের শেষ ম্যারাথনের সময় ডাকাত দল কর্তৃক এক ব্রিটিশ ট্যুরিস্টকে কিডন্যাপিংয়ের ঘটনা) এবং মিথ (সেই ডাকাত দলের সর্দার যে মনে করে আলেকজেন্ডার দ্য গ্রেটের আত্মা তার ওপর ভর করেছে)। ১৯৮৪-তে নির্মাণ করেন ‘ভয়েজ টু সিথেরা’, ১৯৮৬-তে ‘দ্য বি কিপার’ এবং ১৯৮৮-তে ‘ল্যান্ডস্কেপ ইন দ্য মিস্ট’, যে ছবিগুলোকে যথাক্রমে ইতিহাসের নীরবতার, ভালোবাসার নীরবতার এবং ঈশ্বরের নীরবতার চিত্রায়ন নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

‘ল্যান্ডস্কেপ ইন দ্য মিস্ট’ ১৯৮৮ সালে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালে সিলভার লায়ন লাভ করে। যে ছবিতে দেখা যায় দুটো শিশু তাদের বাবার খোঁজে বের হয় এবং ট্র্যাভেলিং প্লেয়ার্সের সেই নট-নটিদের সঙ্গে তাদের আবার দেখা হয়। তবে তার সব থেকে উল্লেখযোগ্য যে দুটি ছবি তা হলো- ইউলিসিস গেজ (১৯৯৫) এবং ইটারনিটি অ্যান্ড এ ডে (১৯৯৮)।

সীমান্ত রেখা নিয়ে থিও অ্যাঞ্জেলোপোলাসের সবসময় একটা চরম আপত্তি কাজ করত। আমেরিকান ফিল্ম ক্রিটিক গিডন ব্যাচম্যানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন- ‘আমার কাছে সীমান্ত কোনো ভৌগোলিক ধারণা নয়। আমার কাছে সীমান্ত হচ্ছে শুধুই বিভাজন, এখানের সঙ্গে ওখানের বা এখনের সঙ্গে তখনের’। ইউলিসিস গেজ-এ তাই উচ্চারিত হয়- ‘We have crossed the boarder, but we are still here. How many boarders do we have to cross before reach home?’’ ইটারনিটি অ্যান্ড এ ডে, যেটা ১৯৯৮ সালে কান ফিল্ম ফেস্টিভালে পাম দ’র লাভ করে, সেটা আমাদের আরো মুগ্ধ করে। যেখানে দেখা যায় আলেকজান্ডার ব্রুনো নামে একজন লোক শব্দ নিয়ে কারবার করে। যখনই তার মন খারাপ হয় পথে পাওয়া ছোট্ট ছেলেটি তাকে শব্দ উপহার দেয়। বিনিময়ে ব্রুনো তাকে পয়সা দেয়। ছবির শেষে ছেলেটি তাকে চলে যাওয়ার সময় তিনটি শব্দ উপহার দিয়ে যায়। যে তিনটা শব্দ অ্যাঞ্জেলোপোলাসের ভাষায় ব্রুনোর জীবনের সারমর্মও প্রকাশ করে। সেই তিনটি শব্দের অর্থ একই সাক্ষাৎকারে অ্যাঞ্জেলোপোলাস নিজের ভাষাতেই দেন- ‘korfulamu অর্থাৎ ভালোবাসার নৈকট্য, গভীরতা সবকিছুকেই বোঝায়- হতে পারে তা মায়ের বা প্রেমিকার। দ্বিতীয় শব্দ xenitis গল্পের আস্তিত্বিক দিকটাকে প্রকাশ করে। আত্মাকে প্রকাশ করে। তৃতীয় শব্দ argathini প্রকাশ করে সময়কে।

এই সময়কে প্রকাশের তাগিদ থেকেই থিও অ্যাঞ্জেলোপোলাসের রাজনীতি সচেতনতার প্রয়াস। রাজনীতিকে তিনি দেখেন যুদ্ধ হিসেবে। সেই যুদ্ধ আত্মার যুদ্ধ। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিকে অবশ্যই তার জীবনে সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়তে হয়, কারণ জীবনের একটা মানে আছে, তার একটা লক্ষ্য আছে- জগৎ তা ভুলিয়ে রাখে। সবকিছু সার্বিকভাবে মোটা দাগে ভাবার জন্য আমি কখনই রাজনীতি নিয়ে কারবার করি না। আমি ওগুলো বোঝা ছেড়ে দিয়েছি’। যে কথা প্রবন্ধের শুরুতে বলা হয়েছিল। ওভাবে ভাবেননি বলেই থিও অ্যাঞ্জেলোপোলাস রাজনীতির গভীরে যেয়ে তার ছবিগুলোর গভীরতা আনার প্রয়াস পেয়েছিলেন। তবু বিনয়ী এই পরিচালক তার সব ছবিকে বিল্ডিং তৈরির আন্ডারকন্সট্রাকশন বা ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। যে কারণে তার ছবির স্ক্রিপ্ট বার বার লিখে যেতে হয়। ইটারনিটি অ্যান্ড এ ডে’র শুটিংয়ের সময় গিডন ব্যাচম্যানকে জানান- ‘এই স্ক্রিপ্টের ১৬তম ভারসনের শুটিং আমরা করছি। এবং এখনো লিখে চলেছি, এই যে শুটিংয়ের মধ্যেই আমি যোগ-বিয়োগ, পরিবর্তন করে চলি। বিরামহীনভাবে…’। ল্যান্ডস্কেপ ইন দ্য মিস্ট-এ ছোট্ট শিশু ভাউলাকে বলতে শোনা যায়- ‘এই গল্প কোনোদিন শেষ হবে না’। এই কারণেই থিও অ্যাঞ্জেলোপোলাস আমাদের স্মরণে বিরমহীনভাবে মনে স্থায়ী আসন করে নেবেন। তার শেষ ছবি ‘দ্য আদার সি’, যে ছবিটি অসমাপ্ত রেখে তার অকাল প্রয়াণ ঘটে সেই ছবিটির সমাপ্তি নিয়ে তাই এখন আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিস্ময়ের দিকটি হলো- তার জীবন দর্শন এবং তার মৃত্যু যেন একটা বিশেষ সূত্রে গাঁথা হয়ে রইল। সব মানুষ তাদের সব কাজ কিছুটা অসমাপ্ত রেখেই এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়।
(প্রথম প্রকাশ: অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক বুধবার)

© 2016. www.oncinemabd.com | Editor & Founder Bidhan Rebeiro | oncinemabd@gmail.com | C: www.bidhanrebeiro.wordpress.com