অভিনয়ের নবাব: আনোয়ার হোসেন

সাক্ষাৎকার

সাজেদুল আউয়াল

Imageঅভিনয় ছাড়া জীবনে যিনি আর কিছুই করেননি তিনি অভিনয়শিল্পী আনোয়ার হোসেন। জন্মেছিলেন ৬ ডিসেম্বর ১৯৩১ সালে, জামালপুরে। বাবা নাজির হোসেন, মা সায়িদা খানম, স্ত্রী নাসিমা খানম। চার ভাই ছয় বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। স্কুলের পড়া শেষ করে চলে আসেন ময়মনসিং কলেজে। তখনকার ময়মনসিং-এর সাংস্কৃতিক পরিবেশ আনোয়ার হোসেনকে অভিনয়শিল্পী হওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যোগায়: নাটকের অভিনয়, সঙ্গীতচর্চা আর সিনেমাহলে পশ্চিমবাংলায় নির্মিত বাংলা সিনেমা প্রদর্শন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। ঢাকায় এসে মঞ্চনাটক, রেডিও নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন পঞ্চাশ দশকের শেষদিক থেকে এক সময় কিছুদিন যাত্রা করেন। টেলিভিশন নাটকেও অভিনয় করেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় তিনশোর অধিক চলচ্চিত্রে১ অভিনয় করেছেন। বহু পুরস্কার পেয়েছেন২। পারিবারিক মেলোড্রামা, সামাজিক, ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, লোককাহিনিভিত্তিক  প্রায় সব ধরনের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার সঙ্গে আলাপচারিতায় সেইসব ফেলে আসা দিনগুলোর অনেক প্রসঙ্গ উঠে এসেছে যা শুধু তাকেই অনুধাবনে সাহায্য করে না বরং সেইসব দিনে যারা অভিনয় করতেন, নির্দেশনা দিতেন, ক্যামেরা সঞ্চালন করতেন তাদের সম্পর্কে নানা অজানা তথ্যও পাওয়া যায়। আবার পূর্বপাকিস্তান ও বাংলাদেশ পর্বের বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের কিছু প্রসঙ্গও আলাপচারিতায় উঠে এসেছে যা উভয় পর্বের চলচ্চিত্রের গতি-প্রকৃতি সম্বন্ধে একটি প্রেক্ষিত পেতে সাহায্য করে।

এক.
সা.আ.: আমার প্রথম প্রশ্ন  অভিনয়শিল্পী না হলে আপনি কী হতেন?
আ.হো.: আমি জীবনের শুরু থেকেই অভিনয়শিল্পীই হতে চেয়েছি।
সা.আ.: কখন এই ভাবনা আপনার মাথায় আসে?
আ.হো.: স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় যখন একটি একাঙ্কিকায় অভিনয় করি, তখন। এরপর যখন ময়মনসিং কলেজে পড়ি তখন আশকার ইবনে শায়েখের পদক্ষেপ-এ হিরোর চরিত্রে অভিনয় করি। তখন অভিনয় করে যাওয়ার বিষয়টা আরো পাকাপোক্ত হয়। তখন ময়মনসিং-এ নাটক হতো, সঙ্গীত হতোসিনেমা হলে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ছবি চলতো।
সা.আ.:এটা কোন্ সালের কথা?
আ.হো.: ১৯৫১ হবে  তখন ময়মনসিংয়ে প্রচুর নাটক করেছি। ছবি বিশ্বাস, কাননদেবী, বিকাশ রায়, পাহাড়ী সান্যাল, উত্তম, সুচিত্রা  এদের ছবি দেখেছি।
সা.আ.: এদের মধ্যে কার অভিনয় আপনার সবচেয়ে ভালো লাগতো?
আ.হো.: ছবি বিশ্বাসের। অমরাবতী বলে একটা হল ছিল  ওখানে ছবিও দেখতাম, নাটকও করতাম। ছবি বিশ্বাসের ছবি দেখতে দেখতেই রূপালী জগতে আসার ইচ্ছেটা প্রবল হয়। তারপর একদিন ঢাকায় চলে এলাম।
সা.আ.: কবে?
আ.হো.: পঞ্চাশ দশকের শেষ দিকেই, তখন আইয়ুব খান মার্শাল ’ল জারি করে ফেলেছেন। ঢাকায় এসে চাকরী খুঁজলাম, পেলাম না। শেষমেষ নাটক করতেই শুরু করলাম।
সা.আ.: ঢাকায় কোন্ নাটক দিয়ে অভিনয় শুরু করেন?
আ.হো.: এক টুকরো জমি বলে একটা নাটক দিয়ে। ঐ ১৯৫৯ সালেই।
সা.আ.: কোন্ ধরণের নাটক ছিল ওটা?
আ.হো.: ওটা একটা সামাজিক নাটক ছিল।
সা.আ.: কোথায় অভিনীত হয়েছিল নাটকটা?
আ.হো.: মাহবুব আলী ইনস্টিটিউশন-এ। ওখানে তখন প্রচুর নাটক হতো।
সা.আ.: ঢাকায় তো তখন কলকাতার ফিল্মও চলতো  ফিল্ম দেখতেন কী?
আ.হো.: প্রচুর ফিল্ম দেখেছি  গুলিস্তান, মুন, লায়ন ইত্যাদি হলগুলোতে।
সা.আ.: তখন নাটক কী শুধু মাহবুব আলী ইনস্টিটিউশনেই হতো?
আ.হো.: না, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনেও হতো।
সা.আ.: ঐ সময় নাটক করে আপনি কী রকম সম্মানী পেতেন?
আ.হো.: প্রথম নাটক এক টুকরো জমি করে কোনো অর্থ পাইনি, শখের বশেই করেছিলাম। পরে যে নাটকটা করি, নাম মনে নেই, ওটা করে পনের টাকা সম্মানী পেয়েছিলাম। এটা ১৯৬০-’৬১ সালের কথা। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে হয়েছিল নাটকটা। নাটকের দলটা আমরাই গঠন করেছিলাম। হাসান ইমাম দলে ছিলেন।
সা.আ.: আপনার সাথে আর কারা অভিনয় করতেন?
আ.হো.: সুভাষ দত্ত, আনোয়ারা, মোহাম্মদ আনিস  এরা ছিলেন। মোহাম্মদ আনিস জিপিও-তে চাকরী করতেন।
সা.আ.: তখন কী আপনি রেডিও-তে নাটক করেছেন?
আ.হো.: খুব একটা করা হয়নি। নওফেল ও হাতেম বলে একটা নাটকে অভিনয় করেছিলাম, মনে পড়ে। তবে কার লেখা ছিল মনে পড়ে না, মোহাম্মদ আনিস ছিল সহশিল্পী। ওনি আর্টিস্ট ছিলেন।
সা.আ.: আমরা শুনেছি আপনি রেডিও-তে ঘোষকও হতে চেয়েছিলেন, সত্যি নাকি?
আ.হো.: হ্যাঁ, অডিশন দিয়েছিলাম, অন টেস্টে কয়েকবার ঘোষক হিসেবে কাজও করেছিলাম, কিন্তু পরে আর কিছু জানায়নি। আমি তো শুধু অভিনয়ই করতে চেয়েছি, তাই আমিও আর খোঁজ নিইনি। সারাজীবন শুধু অভিনয়ই করে গেছি  কোনোদিন চাকরী করিনি।
সা.আ.: আমরা এবার আপনার চলচ্চিত্রশিল্পে প্রবেশ প্রসঙ্গে জানতে চাইবো  আমরা জানি যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম কাহিনীধর্মী চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ (১৯৫৬)-এর শুটিং শুরু হয় ১৯৫৪ সালে। আপনি কী এই উদ্যোগ সম্পর্কে কিছু জানতেন?
আ.হো.: তখন আমি ময়মনসিংহে  ওখান থেকেই জানলাম যে ‘মুখ ও মুখোশ’ হচ্ছে এবং জববার সাহেব পরিচালন করছেন  ঐটুই জানতাম।
সা.আ.: এই খবরটা নিশ্চয় আপনাকে কিছুটা অনুপ্রাণিত করেছিল এই সূত্রে যে ঢাকায় গেলে ছবিতে অভিনয় করা যাবে...।
আ.হো.: কিছুটা, কারণ ছবিতে অভিনয় করার ইচ্ছা আমার তখন থেকেই ছিল। তারপর তো ঢাকায়ই চলে এলাম নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করার জন্য।
সা.আ.: কোন্ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করলেন?
আ.হো.: তোমার আমার (১৯৬১) বলে একটা ছবিতে। এটার পরিচালক ছিলেন মহিউদ্দিন সাহেব। তিনি এর আগে মাটির পাহাড় (১৯৫৯) তৈরি করেছেন। ঢাকায় এসে ওনার কাছে গিয়েছিলাম অভিনয় করার জন্য। তখন উনি বললেন, না, এই ছবিতে কাস্ট করার মতো কোন চরিত্র বাকি নাই। উনিই আমাকে উনার পরের ছবি তোমার আমার-এ কাস্ট করলেন, ভিলেনের চরিত্রে  এই হিরোকে ল্যাং মারা, হিরোইনের সঙ্গে প্রেম করতে যাওয়াএইসব আর কি। এর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন সৈয়দ শামসুল হক  শ্রমিক আন্দোলনভিত্তিক একটা কাহিনি  মহিউদ্দিন সামাজিক সমস্যাকে ছবিতে প্রাধান্য দিতেন।
সা.আ.: কত সম্মানী পেয়েছিলেন?
আ.হো.: তখন তিনশো টাকা পেয়েছিলাম। টাকাটা বড় কথা না  বড় কথা হচ্ছে তখনকার পরিবেশটা। এই পরিবেশটা একদিনে তৈরি হয়নি। তোমার আমার-এর আগে তৈরি হয়েছে জাগো হুয়া সাভেরা (১৯৫৯), আকাশ আর মাটি (১৯৫৯), মাটির পাহাড়, রাজধানীর বুকে (১৯৬০), যে নদী মরুপথে (১৯৬১), হারানো দিন (১৯৬১) ইত্যাদি  এগুলোর পরেই তো ‘তোমার আমার’। এর গানগুলো লিখেছিলেন কবি আহসান হাবীব ও আবু হেনা মোস্তফা কামাল, গেয়েছিলেন ফেরদৌসী বেগম, সোহরাব হোসেন, সত্য সাহা, মোহাম্মদ আসফদ্দৌলা। মহিউদ্দিন সাহেবের প্রথম ছবি মাটির পাহাড়, যেটা ১৯৫৯ সালে মুক্তি পায়, এর কাহিনি-চিত্রনাট্য-সংলাপ সব সৈয়দ হকের। গানগুলো লিখেছিলেন কবি শামসুর রাহমান, আবু হেনা মোস্তফা কামাল; সুরকার ছিলেন শ্রী সমর দাশ। ভাবুন কী সব মানুষেরা ছবির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাহলে বলুন তখনকার ছবি ভালো হবে না কেন? এখনকার ছবির জগতে কী এরকম মানুষেরা জড়িত আছেন যে ছবি ঐ রকম হবে?
সা.আ.: ঐ রকম কাহিনি, সংলাপ, গান থাকার কারণেই কী আপনাদের অভিনয়ও অন্যরকম হতো?
আ.হো.: কিছুটা তো বটেই।
সা.আ.: চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে মহিউদ্দিন সাহেবকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আ.হো.: আমার কাছে মনে হয়েছে উনি অনেক কিছু জানেন  চলচ্চিত্রের আঙ্গিকটা বুঝতেন।
সা.আ.: তোমার আমার-এর পর ১৯৬১ সালে আপনি অভিনয় করলেন সালাহ্উদ্দিনের সূর্যস্নান (১৯৬২)-এ। ওনার পরিচালনারীতিটা কেমন ছিল?
আ.হো.: নরম্যাল  খুব একটা কিছু না। অভিনয়টা কীভাবে করতে হবে সে বিষয়ে কিছু বলতেন না; উনি শুধু বলে দিতেন যে এই-এই ঘটনা, এর মাঝেই কাজ করতে হবে, বাকি সব কিছু নিজে থেকেই করে নিতাম।
সা.আ.: সূর্যস্নান-ওতো আরেক গুণী সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদ-এর কাহিনি নিয়ে নির্মিত। এর ক্যামেরা সঞ্চালক তো ছিলেন আরেক গুণী মানুষ বেবী ইসলাম। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে তার ক্যামেরা-সঞ্চালনের কারণেই ‘সূর্যস্নান’ একটা শিল্পসম্মত চলচ্চিত্র হয়ে উঠেছে  এ ব্যাপারে আপনার কী অভিমত?
আ.হো.: এ কথা কতকটা সত্যি। ক্যামেরা পরিচালনা করার মধ্য দিয়েই ছবিটা তৈরি হয়েছে  একজনের নাম গেছে, এই পর্যন্তই  কিন্তু ছবিটা তৈরি করেছিলেন বেবী ইসলাম। কীভাবে শট নিতে হবে, আর্টিস্ট কোথা থেকে কোথায় মুভ্ করবে, ফ্রেম, আলো কীরকম হবে  সবকিছুই বেবী ইসলাম করেছিলেন।
সা.আ.: সূর্যস্নান-এ আপনার অভিনয়ও তো তখন খুব প্রশংসা পেয়েছিল। হাসান ইমাম সাহেব আমাকে বলেছেন যে সূর্যস্নান-এ আপনার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে কৃষ্ণনগর থেকে একটা পুতুল এনে আপনাকে উপহার দিয়েছিলেন, মনে পড়ে ঘটনাটা?
আ.হো.: না, মনে পড়ে না। মনে পড়ে সে খুব প্রশংসা করেছিল। হাসান ইমাম সাহেব আমার খুব বন্ধু মানুষ ছিলো, সে হিসেবে এনে দিয়েছিলেন হয়তো।
সা.আ.: কাউকে অনুকরণ করে কী এর অভিনয়ের ঢংটা দাঁড় করিয়েছিলেন?
আ.হো.: এতে আমি একজন শ্রমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। ময়মনসিংহের একটা জঙ্গলে ও তার আশে-পাশেই পুরো ছবিটার শুটিং হয়েছিল। আমার অভিনয়ের ঢংয়ে অনেক শিল্পীর প্রভাবই পড়েছে  যেমন ছবি বিশ্বাস, তারপরে জহর গাঙ্গুলী  এদের প্রভাব পড়েছে কিছুটা। তবে আমার অভিনয় করার যে ঢং সেটা আমার একেবারে নিজেরই। কাউকে হুবহু অনুকরণ করিনি কখনো।
সা.আ.: সূর্যস্নান বেশ কয়েকবার সেন্সর বোর্ডের আপত্তির মুখে পড়েছিল। কোন্ কোন্ কারণে এই আপত্তি এসেছিল, মনে পড়ে?
আ.হো.: তা আমার পুরো মনে নেই। ছবির বিষয়বস্ত্তর জন্যই হয়তো হবে  কারণ এতে শ্রমিক আন্দোলন ছিল, কিছুটা প্রতিবাদ ছিল এই আর কী।
সা.আ.: সূর্যস্নান-এ অভিনয় করে আপনি কত টাকা সম্মানী পেয়েছিলেন?
আ.হো.: পাঁচশ টাকার মতো দেওয়া হয়েছিল। টাকার চেয়ে তখন একটা ছবিতে অভিনয় করছি সেটাই আনন্দের কথা ছিল।
সা.আ.: আমরা শুনেছি যে ঐ সময় আপনি ইকবাল ফিল্মস-এ একজন মান্থলী পেইড আর্টিস্ট হিসেবে অভিনয় করতেন। মাসে কত টাকা পেতেন?
আ.হো.: কত টাকা পেতাম সেটা মনে নেই। জববার খানের সংস্থা ছিল ওটা। বোধ হয় শ’তিনেক টাকা পেতাম। তখনও নবাব সিরাজদ্দৌলা (১৯৬৭) করিনি আর কী।
সা.আ.: সূর্যস্নান-এর পর তো আপনি বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন, অনেক গুণী পরিচালকদের সাথে কাজ করেছেন। সব নিয়ে তো আলাপ করা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে না। তবে ১৯৬৩ সালে জহির রায়হান নির্মিত কাচের দেয়াল (১৯৬৩) সম্পর্কে জানতে চাইবো, বিশেষ করে তিনি কীভাবে দৃশ্যধারণ করতেন?
আ.হো.: উনি ছবি সবচেয়ে ভালো বুঝতেন। সেট, আলো, মেকআপ, ক্যামেরা, এ্যাঙ্গেল  সবকিছু ঠিক করে তবেই দৃশ্যধারণ করতেন, মানে শট নিতেন। উনি অভিনয়টা করে দেখাতেন না, অভিনয়টা আমরা করে দেখাতাম। চার-পাঁচ রকমভাবে একটা দৃশ্য করে দেখাতাম  উনি দেখে তারপর বলতেন এক নম্বর কিংবা তিন নম্বরটা আবার দিন। ওটাই উনি তুলতেন আর কী। উনি শুধু চিত্রনির্মাতা ছিলেন না, উনি বিভিন্ন ধরনের কাজ করতেন, সেগুলো সম্পর্কে কখনো জানার চেষ্টা করিনি। লিখতেন, ক্যামেরায় কাজ করতেন। ক্যামেরায় উনি বেশি কাজ করতেন। ‘লেট দেয়ার বি লাইট’-এ অসাধারণ ক্যামেরাওয়ার্ক করেছিলেন।
সা.আ.: কাঁচের দেয়াল-এর আগে ১৯৬২ সালে আপনি আবদুল জববার খান-এর জোয়ার এলো (১৯৬২)-তে অভিনয় করেছেন। তিনি তো মূলত নাটকের মানুষ ছিলেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তাকে কেমন মনে হয়েছে?
আ.হো.: জোয়ার এলো-তে আমি একটা সাইড ক্যারেক্টারে অভিনয় করি। একটু খানি প্রেম করেছি আর কী। আমার কাছে মনে হয়েছে উনি নাটকেই ভালো করেছেন। জহির রায়হানরা যেভাবে ছবিটাকে বুঝতেন সেরকমভাবে উনি বুঝতেন বলে আমার মনে হয়নি।
সা.আ.: উনি তো ১৯৬৩ সালে নাচঘর (১৯৬৩) বলে উর্দু ভাষায় একটা ফিল্মও বানিয়েছেন। সেটাতেও আপনি ছিলেন ...।
আ.হো.: হ্যাঁ  হিরোর চরিত্রে।
সা.আ.: পারিশ্রমিক কিরকম পেয়েছিলেন?

>> (সংক্ষেপিত) প্রথম প্রকাশ: বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ জার্নাল, ২০১০

© 2016. www.oncinemabd.com | Editor & Founder Bidhan Rebeiro | oncinemabd@gmail.com | C: www.bidhanrebeiro.wordpress.com